ভারতীয় রাজনীতিতে পারিবারিক বিভাজন, আদর্শের লড়াইয়ে ভিন্ন পথে পরিজনেরা

ভারতীয় রাজনীতিতে পারিবারিক বিভাজন, আদর্শের লড়াইয়ে ভিন্ন পথে পরিজনেরা

আসামের কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলুইয়ের বিজেপিতে যোগদান ভারতীয় রাজনীতিতে এক পরিবারে থেকেও ভিন্ন আদর্শের সহাবস্থানের বিষয়টি পুনরায় সামনে এনেছে। বাবার দলবদলের পরেই ছেলে প্রতীক বরদলুই কংগ্রেসের প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন, যা পারিবারিক আনুগত্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্বন্দ্বকে স্পষ্ট করে। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল নয়, যেখানে রক্তের সম্পর্কের চেয়েও দলীয় আদর্শ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় স্তরে গান্ধী পরিবারের একাংশ যেমন কংগ্রেসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তেমনই মানেকা ও বরুণ গান্ধী দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহারাষ্ট্রে পাওয়ার ও ঠাকরে পরিবারের অন্দরেও রাজনৈতিক বিভাজন অত্যন্ত প্রকট। শরদ পাওয়ারের বিপরীতে তাঁর ভাইপো অজিত পাওয়ার এবং উদ্ধব ঠাকরের বিপরীতে রাজ ঠাকরে ভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তুলেছেন। উত্তরপ্রদেশের যাদব পরিবারেও একই চিত্র বিদ্যমান, যেখানে অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরই অন্য দলে সক্রিয় দেখা যায়।

আঞ্চলিক রাজনীতিতেও সিন্ধিয়া বা বাংলার গণি খান চৌধুরীর পরিবারে এই বহুদলীয় ঐতিহ্যের উদাহরণ রয়েছে। রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া বিজেপির মুখ হলেও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা দীর্ঘদিন কংগ্রেসের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যারাও বর্তমানে বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে, সমকালীন ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে দলীয় পরিচয় ও কৌশলগত অবস্থানই অনেক সময় প্রাধান্য পায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *