নারীর মানসিক উদ্বেগের নেপথ্যে পারিবারিক চাপ ও অনিশ্চয়তা: সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

নারীর মানসিক উদ্বেগের নেপথ্যে পারিবারিক চাপ ও অনিশ্চয়তা: সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

বাংলার ১৭ হাজারেরও বেশি কিশোরী ও মহিলার ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়েছে। এসএসকেএমের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির বিশেষজ্ঞদের মতে, পড়াশোনায় সেরা হওয়ার পারিবারিক চাপ এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কিশোরীদের মানসিক উৎকণ্ঠার প্রধান কারণ। তবে আশার কথা হলো, কলকাতা শহরের প্রায় ৯ হাজার কিশোরী নিজে থেকে স্কুলের কাউন্সেলরদের সহায়তা নিয়েছে, যা সচেতনতার ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি তরুণীরা মূলত কর্মজীবন ও পড়াশোনার চাপ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। অন্যদিকে, ২৬ থেকে ৪৯ বছর বয়সি নারীরা পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। কন্যাশ্রী ও রূপশ্রীর মতো সরকারি প্রকল্পের ফলে নারীশিক্ষার হার বাড়লেও, প্রতিযোগিতার ইঁদুরদৌড় তাঁদের ওপর বাড়তি মানসিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন মনোবিদরা।

বিশেষজ্ঞ প্রীতি পারেখ এবং মায়াঙ্ক কুমার বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তন ও হরমোনজনিত সমস্যার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এই সময়ে একাকীত্ব ও সামাজিক উপহাস কিশোরীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, নিবিড় কাউন্সেলিং এবং পরিবারের খোলামেলা আলোচনা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালীন মেয়েদের প্রতি বাড়তি নজরদারি ও সহমর্মিতা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *