কিডনি বিকল হলেও অদম্য জেদ, মমতার নাম হাতে খোদাই করে কাঁথিতে পরিবর্তনের ডাক বৃদ্ধের

কিডনি বিকল হলেও অদম্য জেদ, মমতার নাম হাতে খোদাই করে কাঁথিতে পরিবর্তনের ডাক বৃদ্ধের

দুই কিডনি অকেজো, সপ্তাহে দু’বার ডায়ালিসিস নিতে হয় কাঁথির দুরমুঠ গ্রামের ৬৮ বছর বয়সি সঞ্জয় মাইতিকে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে সভা-মিছিলে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন না দীঘা বাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের এই ম্যানেজার। তবে তৃণমূলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও নিষ্ঠা অটুট। সেই টানেই নিজের বাঁ হাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ট্যাটু করে খোদাই করেছেন তিনি। শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করেও মেচেদা বাইপাসের ইউনিয়ন রুমে বসে প্রতিনিয়ত শান দিচ্ছেন রাজনৈতিক আলোচনায়।

দীর্ঘদিন কংগ্রেস করার পর ২০০২ সাল থেকে তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরেছেন সঞ্জয়বাবু। বাম জমানায় রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে নৃশংস অত্যাচারের দাগ আজও তাঁর শরীরে স্পষ্ট। তাঁর স্ত্রী ও ভাইও পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দলের কাজ করেছেন। বর্তমানে সক্রিয়ভাবে রাজপথে নামতে না পারলেও তাঁর বিশ্বাস, আসন্ন নির্বাচনে দিদিই চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি এখন প্রহর গুনছেন কাঁথি থেকে বিরোধী শিবিরের বিদায়ঘণ্টা শোনার জন্য।

বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে ‘ভাঁওতাবাজি’ আখ্যা দিয়ে প্রবীণ এই নেতার দাবি, মানুষ উন্নয়নের নিরিখেই ভোট দেবেন। কাঁথি উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রে গতবারের জয়ী বিধায়কদের পুনরায় টিকিট দেওয়া নিয়ে বিজেপির অন্দরে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তাকেই হাতিয়ার করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। আদি বিজেপি কর্মীদের একাংশের অসন্তোষ এবং সঞ্জয়বাবুর মতো একনিষ্ঠ কর্মীদের আবেগ মিলেমিশে এখন কাঁথিতে পদ্মমুক্তির স্লোগান জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শারীরিক প্রতিকূলতা জয় করে সঞ্জয় মাইতির এই লড়াই দলের কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *