মাটি ফুঁড়ে বেরোনো প্রাকৃতিক গ্যাসে চলছে রান্না: আসামের পরিবারে এলপিজি সংকটের অদ্ভুত সমাধান

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও এলপিজি সিলিন্ডারের আকাশছোঁয়া মূল্যের মাঝেও নিশ্চিন্তে রয়েছে আসামের জোড়হাটের একটি পরিবার। ঢেকিয়াজুলি কাহার গাঁও গ্রামের বাসিন্দা জিতু গগৈয়ের বাড়িতে রান্নার জন্য কোনো সিলিন্ডারের প্রয়োজন হচ্ছে না। প্রায় ১৪ মাস আগে পানীয় জলের জন্য পাইপ বসাতে গিয়ে মাটির গভীর থেকে আকস্মিকভাবে দাহ্য প্রাকৃতিক গ্যাস বের হতে শুরু করে। বর্তমানে সেই গ্যাসকেই পাইপের মাধ্যমে সরাসরি রান্নাঘরে যুক্ত করে দৈনন্দিন কাজ সারছেন তারা।
প্রাকৃতিক এই উৎসটি জিতুর পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ালেও এর পেছনে রয়েছে চরম ঝুঁকি। কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এই গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত এই দাহ্য গ্যাস ও এর বিষাক্ত প্রভাব ফুসফুসের রোগসহ অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আসামের বাঘজানে ঘটে যাওয়া পূর্বের গ্যাস দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। খবরটি জানাজানি হতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে সতর্ক করা হয়েছে। পুরো গ্রামকে সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করতে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই অলৌকিক ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।