নেই কোনো ডিল নেই টোল! হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারত কীভাবে আনল তেলের জাহাজ? জানুন আসল রহস্য

ইরান ও আমেরিকার চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্বের নজর এখন হরমজ প্রণালীর দিকে। চিন, পাকিস্তান বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোকে এই পথ দিয়ে জাহাজ পাঠাতে ইরানের দেওয়া কঠিন শর্ত বা মোটা অঙ্কের টোল মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটেছে। কোনো গোপন চুক্তি বা অর্থ ছাড়াই নিজেদের তেলের জাহাজ নিরাপদে বের করে এনেছে নয়াদিল্লি।
নেপথ্যে ছিল ভারতের তুখোড় কূটনীতি
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত এই সংকটের সমাধানে কোনো সামরিক শক্তি নয়, বরং বেছে নিয়েছিল কূটনৈতিক রাস্তা। যখন খামেনেইর শোকসভায় ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি যোগ দেন, তখনই আলোচনার সূত্রপাত হয়। ভারতের জন্য সমীকরণটি সহজ ছিল না; কারণ একদিকে দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরান, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা সহযোগী আমেরিকা।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই আলোচনার পরই ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে ভারতের জাহাজগুলোকে নিরাপদ পথ দেওয়া হয়।
কোচি বন্দরে ইরানের জাহাজকে আশ্রয়
ভারতের এই সাফল্যের পেছনে একটি বড় সিদ্ধান্ত কাজ করেছে। আমেরিকা যখন শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’ ডুবিয়ে দেয়, তখন ভারত মানবিক ও কৌশলগত কারণে ইরানের একটি নৌসেনা জাহাজকে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। ভারত এই ঝুঁকি না নিলে জাহাজটি মার্কিন নিশানায় পড়তে পারত। ভারতের এই বন্ধুত্বের প্রতিদান হিসেবেই ইরান ভারতকে ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ পথের সুবিধা দিয়েছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো বিশেষ চুক্তি হয়নি, বরং প্রতিটি ট্যাঙ্কার নিরাপদে আনার জন্য বিশেষ কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত বুঝিয়ে দিল, রণহুঙ্কার নয় বরং সঠিক সময়ে সঠিক কূটনীতিই বিশ্বমঞ্চে প্রকৃত শক্তির পরিচয়।