ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে ট্রাম্পের আকস্মিক পিছুটান: নেপথ্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত বন্ধের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চায় ওয়াশিংটন। মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের পালটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপের মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম ট্রাম্প প্রশাসনকে এই নমনীয় অবস্থানে আসতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইজরায়েল কর্তৃক ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে অতর্কিত হামলার পর তেহরান কাতারের তেল ভান্ডারে ভয়াবহ প্রত্যাঘাত করায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। ট্রাম্প এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইজরায়েলকে সংযত হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সাময়িকভাবে ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে বাজারে দ্রুত ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
হোয়াইট হাউস মিশন সফল হওয়ার দাবি করলেও গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গাবার্ডের রিপোর্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অটুট থাকার তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানি গোলন্দাজ বাহিনীর আঘাতে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরে খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ফলে সামরিক দম্ভ সরিয়ে আপাতত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতেই যুদ্ধ বিরতির পথে হাঁটছে আমেরিকা।