আরজি কর লিফ্ট বিপর্যয়: লালবাজারের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য, গ্রেফতার ৫

আরজি কর হাসপাতালে লিফ্ট দুর্ঘটনায় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তভার গ্রহণ করেছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। টালা থানার থেকে দায়িত্ব নিয়ে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন হাসপাতালের গাফিলতির দিকটি। ইতিমধ্যেই অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলায় লিফ্টম্যান ও নিরাপত্তারক্ষীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লিফ্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করে দেখছে কর্তৃপক্ষ এবং এই বিষয়ে একটি বিশদ রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মৃতের স্ত্রী সোনালি দত্ত বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে জানান, ট্রমা কেয়ারের লিফ্টে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে তাঁরা অন্ধকার বেসমেন্টে আটকে পড়েন। তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে বাঁচার আকুতি জানালেও দীর্ঘক্ষণ কোনো সাহায্য মেলেনি। লিফ্টের দরজা ও গ্রিলের তালা বন্ধ থাকায় উদ্ধারকার্য ব্যাহত হয়। চোখের সামনেই স্বামীর রক্তাক্ত দেহ লিফ্ট থেকে ছিটকে পড়তে দেখেন তিনি। এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য প্রশাসনের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেও, বিরোধীরা সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ধৃতদের শিয়ালদহ আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং ঘটনার সময় লিফ্ট পরিচালনার দায়িত্বে নির্দিষ্টভাবে কারা ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও কর্মীদের বয়ান খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উত্তাল আরজি করে এখন মূল লক্ষ্য দোষীদের চিহ্নিত করা।