পকেটের খরচ বাঁচাতে সাবধান! জ্বালানি সংকটে এবার মানতেই হবে এই নিয়মগুলো

নিউজ ডেস্ক : গালফ অঞ্চলে যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) এখন সাধারণ মানুষকে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে। সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, পৃথিবী বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
জ্বালানি বাঁচাতে আইইএ-র প্রধান পরামর্শসমূহ জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করতে এবং খরচ কমাতে আইইএ বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে:
- বাড়তি গতিতে রাশ: গাড়ি চালানোর সময় গতি কমালে জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
- ওয়ার্ক ফ্রম হোম: যেখানে সম্ভব, যাতায়াত কমিয়ে বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- গণপরিবহনের ব্যবহার: ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাস বা ট্রেনের মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে জোর দিতে বলা হয়েছে।
- শেয়ারিং ও ইলেকট্রিক কুকার: কার-পুলিং বা গাড়ি শেয়ার করা এবং রান্নার কাজে গ্যাসের বদলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
- বিমান যাত্রা নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ করে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিমান সফর কমানোর কথা জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই এশিয়ার বেশ কিছু দেশ কড়া নিয়ম চালু করেছে। বাংলাদেশে এসি ২৫ ডিগ্রি এবং থাইল্যান্ডে ২৬ ডিগ্রির নিচে নামানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তান ও ফিলিপিন্সে সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে চার দিন কাজের নিয়ম চালু হয়েছে যাতে জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়।
কেন এই সংকট? রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭০-এর দশকের তেলের সংকটের চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক। বিরোল জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগার ও পাইপলাইন মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরতে আরও অনেক সময় লাগবে। তাই এখন থেকেই বিকল্প শক্তি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে নজর না দিলে ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হতে পারে।