প্রধানমন্ত্রীকে মমতার ‘অনুপ্রবেশকারী’ কটাক্ষ: সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে তুঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত

প্রধানমন্ত্রীকে মমতার ‘অনুপ্রবেশকারী’ কটাক্ষ: সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে তুঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত

ইদ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে কটাক্ষ করায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিদেশে করমর্দন করলেও দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলছেন। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অধিকার হরণ করছে। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি পালটা সরব হয়ে জানিয়েছে, দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এমন কুরুচিকর মন্তব্যের পর মমতার আর সাংবিধানিক পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।

এদিকে ভোটের আবহে শাসক শিবিরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রাবণী কাস্যবি ও তাঁর স্বামী মৃন্ময় কাস্যবি পদত্যাগের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দলে যোগ্য সম্মান না পাওয়ার অভিযোগে তাঁরা অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন। অন্যদিকে, বিজেপির অন্দরেও প্রার্থীপদ নিয়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজনীতি ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

রাজ্য রাজনীতির জল এখন জলহাটি বিধানসভা আসনকে কেন্দ্র করেও উত্তপ্ত। আরজি কর মামলার নির্যাতিতার মায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীপদ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, যাকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মনে করেন, নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে নির্যাতিতার মায়ের নির্বাচনে লড়া উচিত। অন্যদিকে, ইদের সকালে রেড রোড থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন। সব মিলিয়ে উৎসবের আবহেও ধর্মীয় সম্প্রীতির সমান্তরালে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাগযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *