আইএসএফের জোটে ব্রাত্য হুমায়ুন কবীর, নওশাদ ও অধীরকে জেতানোর ঘোষণা বিধায়কের

বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোট রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেলেন ভরতপুরের বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আলাদা দল গড়লেও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে জোট বাঁধার তাঁর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। নওশাদ সিদ্দিকির দল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা হুমায়ুনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় যাচ্ছে না। একক শক্তিতে ভোটের ময়দানে দাগ কাটা কঠিন জেনেও হুমায়ুন কবীর অবশ্য নিজের লক্ষ্য থেকে সরছেন না।
জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তিনি নওশাদ সিদ্দিকি এবং কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে বিধানসভায় দেখতে চান। ভাঙড়ে নওশাদকে জেতানোর জন্য বিশেষ রণকৌশল নেওয়ার পাশাপাশি বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর সমর্থনে সর্বশক্তি প্রয়োগ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। জোটে জায়গা না পেয়েও বিরোধীদের জেতাতে তাঁর এই কৌশল রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, আইএসএফ এবং বামফ্রন্টের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাজ্যের ২৯টি আসনে সিপিএম ও আইএসএফ সমঝোতা করে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকি। মুর্শিদাবাদ ও হরিহরপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইএসএফ। তবে ভগবানগোলা আসনে সিপিএম আগাম প্রার্থী ঘোষণা করায় দুই দলের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জোটের স্বার্থে সিপিএম নেতৃত্বকে ভগবানগোলা থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন নওশাদ। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে ত্রিমুখী সমীকরণ ক্রমশ জটিল হচ্ছে।