ছেলের ফেরার অপেক্ষায় নিঃস্ব মা-বাবা: ৪ কোটি টাকা খরচ করেও অধরা সুস্থতা

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এক কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে স্কুটার দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ৩৫ বছর বয়সী আনন্দ দীক্ষিত। গত আড়াই বছর ধরে তিনি কার্যত জীবন্মৃত অবস্থায় শয্যাশায়ী। দীর্ঘ এই সময়ে তাঁর চিকিৎসার পিছনে ৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে, যার জেরে দীক্ষিত পরিবার এখন চরম আর্থিক অনটনের সম্মুখীন। বিমা সংস্থা বা প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁরা।
ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের জমি ও সঞ্চিত শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করেছেন আনন্দের বাবা। এর মধ্যেই প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় হারিয়েছেন মাথার ছাদ, বর্তমানে ঠাঁই হয়েছে একচিলতে ভাড়া ঘরে। হাসপাতালের বিপুল বিল মেটাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া এই বাবা আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, প্রতিটি ধাপে তাঁরা আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন। এমনকি আইসিইউতে যখন ছেলে লড়ছিলেন, তখনই ভেঙে দেওয়া হয় তাঁদের ঘর।
এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও হাল ছাড়তে নারাজ আনন্দের মা-বাবা। ছেলের মোবাইল ও ঘড়ি আগলে রেখে তাঁরা এক অলৌকিক আশার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। সব হারিয়েও মায়ের বিশ্বাস, একদিন ঠিকই সুস্থ হয়ে ‘মা’ বলে ডাকবে তাঁর সন্তান। এক সময়ের প্রাণচঞ্চল যুবকের নিস্তব্ধ ঘরটি এখন কেবল এক দম্পতির অন্তহীন লড়াই আর ফিরে পাওয়ার আকুল প্রার্থনার সাক্ষী হয়ে রয়েছে।