স্ত্রীর রান্না না করা ‘নিষ্ঠুরতা’ নয়: বৈপ্লবিক পর্যবেক্ষণে বিবাহ বিচ্ছেদের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

বিয়ের পর স্ত্রীর রান্না না করাকে কোনোভাবেই স্বামীর ওপর ‘মানসিক নির্যাতন’ বা ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানায়, “আপনি কোনো পরিচারিকাকে বিয়ে করেননি, বরং একজন জীবনসঙ্গীকে গ্রহণ করেছেন।” শীর্ষ আদালতের মতে, পরিবর্তিত সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ঘরকন্নার কাজে স্বামীদেরও সমানভাবে এগিয়ে আসা উচিত।
২০১৭ সালে বিবাহিত এক দম্পতির বিচ্ছেদের মামলায় নিম্ন আদালত স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘নিষ্ঠুরতার’ অভিযোগ মেনে নিয়েছিল। স্বামীর দাবি ছিল, তাঁর স্ত্রী রান্না করতে চাইতেন না এবং পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। তবে হাইকোর্ট সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোর পর মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। সেখানে বিচারপতিরা স্পষ্টভাবে জানান, শুধুমাত্র গৃহস্থালির কাজ না করা বিচ্ছেদের ভিত্তি হতে পারে না। আদালত আধুনিক দাম্পত্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
মামলা চলাকালীন স্ত্রী পালটা অভিযোগ করেন যে, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর পণের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করতেন। এমনকি সন্তানের অন্নপ্রাশনেও তাঁরা উপস্থিত হননি। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, ঘরোয়া কাজ বা রান্নার দায়িত্ব পালন না করা অপরাধ বা নিষ্ঠুরতা নয়। এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণটি বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এবং জীবনসঙ্গীর মর্যাদা রক্ষায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।