জিনের বিন্যাস বদলে কমছে বয়স, বার্ধক্য রুখতে বিজ্ঞানীদের নতুন দিশা

ক্যালিফোর্নিয়ার সক ইনস্টিটিউট ও জেনেনটেকের বিজ্ঞানীরা বার্ধক্য রুখতে এক যুগান্তকারী গবেষণায় সাফল্য পেয়েছেন। গবেষকরা ইঁদুরের ওপর ‘সেলুলার রিজুভেনেশন’ থেরাপি প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন যে, শরীরের মূল ধারক ডিএনএ-র সাজসজ্জা বদলে দিয়ে বৃদ্ধ কোষকে পুনরায় নবীন করা সম্ভব। মূলত কোষের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণেই মানুষ বৃদ্ধ হয়, কিন্তু এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় কোষের সেই ক্ষয়িষ্ণু গতিপথকেই উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই গবেষণায় ২০০৬ সালে বিজ্ঞানী শিনিয়া ইয়ামানাকার আবিষ্কৃত বিশেষ প্রোটিন বা ‘ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস’-কে কাজে লাগানো হয়েছে। বিজ্ঞানীরা Oct4, Sox2, Klf4 এবং cMyc নামক চারটি ফ্যাক্টরের বিন্যাস অদলবদল করে দেখেছেন যে, এর ফলে কোষের পুনরুজ্জীবন ঘটছে। এই পদ্ধতিতে পরিণত কোষকে পুনরায় প্রোজেনিটর বা স্টেম কোষে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সতেজ করে তুলছে।
আপাতত ইঁদুরের ওপর এই পরীক্ষা চালিয়ে আশাতীত সাফল্য মিলেছে। বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, এই প্রক্রিয়ায় কেবল বয়সের ছাপ কমছে না, বরং শরীরে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। মানবদেহে এই থেরাপির সফল প্রয়োগ নিয়ে বর্তমানে নিবিড় গবেষণা চলছে। সফল হলে ভবিষ্যতে মানুষের আয়ু বৃদ্ধি এবং বার্ধক্যজনিত সমস্যা সমাধানে এটি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।