হরমুজ় প্রণালীর অচলাবস্থা কাটাতে রণতরী পাঠানোর হুঁশিয়ারি, আন্তর্জাতিক আইনের চাপে কি নতিস্বীকার করবে ইরান?

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেলের ট্রানজিট পয়েন্ট হরমুজ় প্রণালী ইরান ও তার মদতপুষ্ট গোষ্ঠীর কারণে অবরুদ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে যৌথভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। ওমান ও ইরানের মালিকানাধীন এই সংকীর্ণ প্রণালীতে ড্রোন ও মাইন হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং ‘সান রেমো ম্যানুয়াল’ অনুযায়ী, যুদ্ধের সময়ও নিরপেক্ষ দেশের বাণিজ্যিক ও যুদ্ধজাহাজ চলাচলের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে। কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারে না। তবে ইরান যদি জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে জাহাজ আটক অব্যাহত রাখে, তবে তা সরাসরি নৌ-অবরোধ হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক কনভয়ের মাধ্যমে পণ্যবাহী জাহাজ পারাপার করা আইনত বৈধ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হরমুজ় সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল আমদানিতে। বিশেষ করে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় নয়াদিল্লি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। আমেরিকার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই জলপথ সচল হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং এলপিজি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েনে এখন নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।