জিএসটি কমলেও স্বস্তি নেই মধ্যবিত্তের: নিত্যপণ্যের দামে নাজেহাল আম জনতা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জিএসটি হার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনলেও তার সুফল অধরাই রয়ে গেল সাধারণ মানুষের কাছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জিএসটি কাঠামোয় বড়োসড়ো রদবদলের পর কেন্দ্রীয় সরকার মূল্যবৃদ্ধি হ্রাসের দাবি করলেও বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসির সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত ছয় মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও সাংসারিক দ্রব্যের দাম উল্টে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে যে ঘি, দুধ, পনির, মশলা এবং প্যাকেটজাত খাবারের দাম হু হু করে বেড়েছে। সাবান ও তেলের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীও এখন মহার্ঘ। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে এই সময়ে এসি, গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং স্মার্টফোনের মতো বিলাসদ্রব্যের দাম অনেকটাই কমেছে। ফলে সরকারি সিদ্ধান্তের সুফল গরিব ও মধ্যবিত্তের তুলনায় বিত্তবানদের কাছেই বেশি পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূল্যবৃদ্ধির এই বৈপরীত্যের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে জিএসটি কমার পর পণ্যের খুচরো মূল্য বা এমআরপি বেড়ে যাওয়া। করের হার শূন্য বা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও কো ম্পা নিগুলো দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় গ্রাহকের পকেটে টান পড়ছে। একদিকে বিলাসদ্রব্যের দাম গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে চাল-ডাল-তেলের মতো জীবনদায়ী পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। সব মিলিয়ে জিএসটি হ্রাসের ‘যুগান্তকারী’ সুফল এখন বিশ বাঁও জলে।