মার্কিন সেনার গ্রেফতারিতে চাঞ্চল্য, উত্তর-পূর্বে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ গড়ার ছক কি ওয়াশিংটনের?

কলকাতা থেকে মার্কিন ভাড়াটে সেনা ম্যাথু ভ্যানডাইক এবং তাঁর ছয় ইউক্রেনীয় সহযোগীর গ্রেফতারিতে উত্তর-পূর্ব ভারতে এক গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে মায়ানমারে অনুপ্রবেশ এবং সেখানকার বিদ্রোহীদের ড্রোন প্রশিক্ষণসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের অংশ নিয়ে একটি পৃথক ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির নীলনকশা বাস্তবায়নে কাজ করছিলেন এই বিদেশিরা।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের জাতিগত বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের সামরিক আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে। মূলত চিনের ওপর নজরদারি চালাতে এবং কৌশলগত সেনাঘাঁটি স্থাপনের উদ্দেশ্যেই এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রুশ গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তার পর সক্রিয় হওয়া এনআইএ খতিয়ে দেখছে যে, এই চক্রান্তের নেপথ্যে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই ‘ক্রাউন কলোনি’ বা পৃথক রাষ্ট্রের দাবিটি দীর্ঘদিনের হলেও বর্তমানে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উত্তর-পূর্বের মিজোরাম ও মণিপুরের সীমান্ত সংলগ্ন অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তির এই হস্তক্ষেপ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়তে মরিয়া তদন্তকারীরা, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।