আরজি করের লিফটে ভয়াবহ মৃত্যু: তদন্তে ফরেনসিক দল, গ্রেফতার ৫

আরজি করের লিফটে ভয়াবহ মৃত্যু: তদন্তে ফরেনসিক দল, গ্রেফতার ৫

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনে লিফটে আটকে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফরেনসিক দল। শনিবার লালবাজারের গোয়েন্দা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির নমুনা সংগ্রহ করেন। লিফটের রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি এবং তালাবদ্ধ গ্রিল খুলতে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজন লিফ্টম্যান ও দুজন নিরাপত্তারক্ষীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে শিয়ালদহ আদালতে পাঠিয়েছে।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তিন বছরের সন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে ভোররাতে লিফটে আটকে পড়েন অরূপবাবু। যান্ত্রিক বিভ্রাটে লিফটি বেসমেন্টে নেমে এলে স্ত্রী ও সন্তান বের হতে পারলেও তিনি আটকা পড়েন। এরপর লিফটের দরজায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, আর্তনাদ করা সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ কেউ তালা ভাঙতে এগিয়ে আসেনি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে অরূপবাবুর হাড় ভেঙে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

হাসপাতাল চত্বরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কর্মীরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। লিফটে লিফ্টম্যানের অনুপস্থিতি এবং চাবি না পাওয়ার অজুহাতে উদ্ধারকার্যে দেরি হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে হোমিসাইড বিভাগ। আরজি কর কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আপাতত অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি মানুষের গাফিলতি—এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সন্ধানে মরিয়া তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *