মধ্যপ্রদেশের বাসমতী রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

নিউজ ডেস্ক
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘে কার্যত দিশেহারা মধ্যপ্রদেশের ধান চাষি ও চাল রপ্তানিকারকরা। গালফ অঞ্চলের দেশগুলোতে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রায়সেনের বিশ্বখ্যাত বাসমতী এবং বালাঘাটের সেদ্ধ চাল এখন গুদামেই পড়ে রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাজ্যের অন্তত দুই ডজন রাইস মিল বন্ধের মুখে।
রপ্তানিতে কেন এই অচলাবস্থা?
অল ইন্ডিয়া রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব এবং জর্ডনের মতো দেশগুলোতে চাল পাঠানো আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের খরচ (Freight Charge) রাতারাতি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে কন্টেইনার ২৫০০ ডলারে পাওয়া যেত, এখন তা ৩২০০ ডলারেও মিলছে না।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
রপ্তানি থমকে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে বাসমতীর দাম কুইন্টাল প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়েছে। রপ্তানিকারক মনোজ সোনি জানিয়েছেন, পেমেন্ট সাইকেল আটকে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের কার্যকরী মূলধনে টান পড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চাষিদের ওপর। তারা এমএসপি-র (MSP) চেয়ে অনেক কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বালাঘাটের চিত্রও ভয়াবহ
শুধুমাত্র বাসমতী নয়, সংকটে পড়েছে বালাঘাটের নন-বাসমতী সেদ্ধ চালও। আগে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন চাল বিদেশে যেত, যা এখন তলানিতে ঠেকেছে। বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছোট ও মাঝারি চাল কলগুলো অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে।
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রদেশের এই সমৃদ্ধ কৃষি-শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।