নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেও ফিকে হয়নি যাত্রার টান, বৈশাখী উৎসবে বুকিংয়ের জোয়ার

লোকসভা নির্বাচনের ব্যস্ততা সত্ত্বেও বাংলাজুড়ে যাত্রাপালার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। চৈত্র মাস ও আসন্ন নববর্ষ উপলক্ষে যাত্রার কোনো বুকিং বাতিল হয়নি, বরং বুকিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলো থেকে ব্যাপক চাহিদা আসায় বর্তমানে দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চিৎপুর যাত্রাপাড়ার অপেরা মালিক ও কলাকুশলীরা।
পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা সম্মেলনের কর্তাদের মতে, চৈত্র মাসে অন্নপূর্ণা পূজা, বাসন্তী পূজা, চড়ক ও গাজনের মতো একাধিক ধর্মীয় উৎসব চলায় যাত্রার বায়না অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। বর্তমানে প্রায় ৫০টি অপেরা প্রতিটি কমবেশি বায়না পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এই মরসুমে প্রতিটি শো সফল হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল। রাজনৈতিক আবহের চেয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন গ্রামীণ দর্শকরা।
ভরা চৈত্রে বুকিংয়ের এই জোয়ারে খুশি শিল্পী ও অপেরা মালিকরা। তাঁদের দাবি, বিনোদনের আধুনিক মাধ্যম থাকা সত্ত্বেও যাত্রাশিল্পের প্রতি মানুষের টান বিন্দুমাত্র কমেনি। নির্বাচনের কারণে নিরাপত্তা বা প্রচারের কড়াকড়ি থাকলেও মাঠ পর্যায়ের যাত্রা আয়োজনে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং উৎসবের আমেজে যাত্রার মঞ্চগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে, যা এই প্রাচীন লোকশিল্পের টিকে থাকার বড় প্রমাণ।