কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ট্রাম্পের আগ্রাসী মন্তব্যে ঘনীভূত আন্তর্জাতিক সংকট

কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ট্রাম্পের আগ্রাসী মন্তব্যে ঘনীভূত আন্তর্জাতিক সংকট

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবেছে কিউবা। দেশটির জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত হওয়ায় প্রায় এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। মূলত জ্বালানি সংকট এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধে ওয়াশিংটনের চাপের ফলে কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, যার প্রভাব পড়ছে হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবাগুলোতে।

এই মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। ট্রাম্প কিউবাকে ‘দখল’ করার ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি যা চান তাই করতে পারেন। তার এই অবস্থানকে স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সমালোচকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ আটকে একটি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া কার্যত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ শামিল।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই পরিস্থিতিকে ‘বাহ্যিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে দেশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াশিংটন এই নিষেধাজ্ঞাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাতিয়ার দাবি করলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষই চরম মূল্য দিচ্ছেন। একদিকে বিদ্যুৎহীন অন্ধকার জনপদ, অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের আগ্রাসী মনোভাব—সব মিলিয়ে লাতিন আমেরিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে কেন্দ্র করে এক গভীর আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *