৭১-এর নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপন

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী জামাতে ইসলামী কর্তৃক সংঘটিত নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। ওহাইওর এই ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যেখানে ২৫শে মার্চ থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এবং পরবর্তী ভয়াবহ দমনপীড়নকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিদেশ বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
এই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ও তাদের মদতপুষ্ট উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী এবং বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। ঐতিহাসিক ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’-এর প্রসঙ্গ টেনে ল্যান্ডসম্যান জানান, তৎকালীন মার্কিন কূটনীতিকরা একে ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করলেও দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে এর যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি। প্রস্তাবটিতে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের মতো গুরুতর অপরাধের কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ল্যান্ডসম্যান অনুরোধ করেছেন যেন হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭১ সালের সেই রক্তক্ষয়ী অধ্যায়কে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রস্তাবে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাঙালি বংশোদ্ভূত মানুষ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো এই অমানবিক অত্যাচার আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ৫ দশকেরও বেশি সময় পর এই ঐতিহাসিক সত্যকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করাই এই আইনি পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য, যা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নিতে পারে।