জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে লকডাউন সদৃশ পরিস্থিতির আশঙ্কা, টালমাটাল আন্তর্জাতিক বাজার

ইরান যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী এই রুটটি বন্ধ হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সার আমদানিতে বাধা আসায় খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA) সদস্য দেশগুলোর জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে গতিসীমা হ্রাস, বিমান সফর কমানো এবং পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারগুলো একে সরাসরি ‘লকডাউন’ না বলে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ হিসেবে অভিহিত করলেও এর কঠোরতা হবে কোভিডকালীন বিধিনিষেধের মতোই।
ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ফিলিপিন্সের মতো দেশগুলোতে তেলের রেশনিং শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন এবং তীব্র হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোও জ্বালানি বাঁচাতে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনছে। ভারতের মতো দেশ, যারা প্রয়োজনের ৮০ শতাংশ তেল এই রুট দিয়ে আমদানি করে, তাদের জন্যও আগামী দিনগুলোতে যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের বাজারে বড়সড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিস্থিতি।