ইসরায়েলের সেই গোপন পরমাণু চুল্লিতে ইরানের আঘাত

দক্ষিণ ইসরায়েলের দিমোনা শহরে ইরানের নজিরবিহীন মিসাইল হামলায় রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মরুভূমির বুকে অবস্থিত ইসরায়েলের সবথেকে রহস্যময় পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। দশকের পর দশক ধরে ‘টেক্সটাইল কারখানা’র আড়ালে লুকিয়ে রাখা এই পরমাণু প্রকল্পের গোপন তথ্য এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
দিমোনা এবং ইসরায়েলের পরমাণু রহস্য
১৯৬০-এর দশকে নেগেভ মরুভূমিতে দিমোনা চুল্লিটি স্থাপন করা হয়। ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে একে গবেষণাগার দাবি করলেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিই দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের মূল উৎস। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে অন্তত ৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে, যা দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করেছে।
আমেরিকার উদ্বেগ ও গোপন নথির ফাঁস
ষাটের দশকে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান ইউ-২ প্রথম এই চুল্লির অস্তিত্ব শনাক্ত করে। তৎকালীন মার্কিন পরিদর্শকদের বিভ্রান্ত করতে ইসরায়েল সেখানে নকল কন্ট্রোল প্যানেল ও গোপন করিডোর তৈরি করেছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ইসরায়েলি টেকনিশিয়ান মোরদাখাই ভানুুনু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দিমোনার গোপন ছবি ফাঁস করে দিলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এই অপরাধে ভানুুনুকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিল।
হামলার প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই দিমোনা লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় দিমোনা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। আরব দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের এই অঘোষিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সরব। তাদের দাবি, আমেরিকা যেখানে ইরান বা সিরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কঠোর, সেখানে ইসরায়েলের ক্ষেত্রে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অবলম্বন করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।