আফিম না কি সৌজন্য? ভোটপ্রচারে মন্দিরে পুজো ও যজ্ঞে শামিল বাম প্রার্থীরা

পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতিতে নাস্তিকতার কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার এক নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে মারোয়াড়ি সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তাঁকে যজ্ঞে ঘৃতাহুতি দিতে এবং পুরোহিতের আশীর্বাদ গ্রহণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
মিনাক্ষী একা নন, জলহাটি কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তও শ্রীচৈতন্যদেবের মন্দিরে পুজো দিয়ে তাঁর প্রচার শুরু করেছেন। অতীতে মহম্মদ সেলিম বা সুভাষ চক্রবর্তীর মতো নেতাদের ধর্মীয় আচরণ নিয়ে দলে বিতর্ক হলেও, বর্তমান প্রজন্মের বাম প্রার্থীরা একে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ ও ব্যক্তিগত রুচির বিষয় হিসেবেই দেখছেন। ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে শুরু করে সংকীর্তনের আসর—সবক্ষেত্রেই বামেদের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচনী ময়দানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে বাম প্রার্থীরা রাজনৈতিক সৌজন্য হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতে, যার যা রুচি সে অনুযায়ী কাজ করবে, এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। সমালোচকদের মতে এটি কৌশলী অবস্থান হলেও, সিপিএম নেতৃত্ব বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেই তুলে ধরছে। প্রথাগত মার্ক্সবাদী চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে এই ‘জনমুখী’ ভঙ্গি ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।