বন্ধ হতে পারে হরমোজ প্রণালী! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মুখে ইরান কী জানাল

বন্ধ হতে পারে হরমোজ প্রণালী! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মুখে ইরান কী জানাল

নিউজ ডেস্ক ।। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারির পালটা জবাব দিল ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি তাদের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়, তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমোজ প্রণালী’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে এই উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্পের আলটিমেটাম ও ইরানের পালটা চাল

গত ২১ মার্চ ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমোজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে তাদের বড় বড় পাওয়ার প্ল্যান্ট ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হামলা হলে তারা কেবল প্রণালী বন্ধই করবে না, বরং ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মার্কিন অংশীদারিত্ব থাকা বিভিন্ন সংস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু বানাবে।

অরাগচির বিস্ফোরক মন্তব্য

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস অরাগচি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, হরমোজ প্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি। তবে আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে বিমা কো ম্পা নিগুলো আতঙ্কিত, যার ফলে পণ্যবাহী জাহাজগুলো এই পথে চলতে ভয় পাচ্ছে। তাঁর মতে, বাণিজ্যের স্বাধীনতা ছাড়া নৌচলাচলের স্বাধীনতা সম্ভব নয়।

কেন এই হরমোজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ?

  • বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
  • ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
  • প্রতি মাসে প্রায় ৩,০০০ জাহাজ এখান দিয়ে যাতায়াত করে, যা বর্তমানে যুদ্ধের আশঙ্কায় তলানিতে ঠেকেছে।

যুদ্ধের দামামা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ইজরায়েলি হামলার জবাবে তারা ইতিমধ্যে ৪০০-এর বেশি মিসাইল ছুড়েছে। নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সময়সীমা পার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *