পাক সেনার মেজর থেকে ভারতের ‘ব্ল্যাক টাইগার’, এক নির্ভীক গুপ্তচরের বীরগাথা

রবীন্দ্র কৌশিক ছিলেন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা, যাঁকে ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (RAW) ‘ব্ল্যাক টাইগার’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। রাজস্থানের এই প্রতিভাবান যুবক নাট্যমঞ্চ থেকে সরাসরি দেশের গোপন মিশনে শামিল হন। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাস করে তিনি সুকৌশলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পদোন্নতি পেয়ে মেজরের দায়িত্ব সামলান। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি ভারতের কাছে শত্রুসেনার গতিবিধি ও পারমাণবিক ঘাঁটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দিয়েছিলেন।
১৯৮৩ সালে এক জুনিয়র গুপ্তচরের ভুলের কারণে রবীন্দ্র কৌশিকের ছদ্মপরিচয় ফাঁস হয়ে যায় এবং তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়েন। দীর্ঘ ১৫ বছর অমানবিক নির্যাতন ও কারাবাস সহ্য করেও তিনি নিজের দেশপ্রেম বিসর্জন দেননি। ১৯৮৫ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়। বন্দিদশায় থাকাকালীন অসুস্থতার কারণে ২০০১ সালে পাকিস্তানের মিয়াঁওয়ালি জেলে এই বীর নায়কের জীবনাবসান ঘটে।
রবীন্দ্র কৌশিকের আত্মত্যাগ ও অসীম সাহসের কাহিনি আজও ভারতীয় গোয়েন্দা ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রূপালি পর্দার গ্ল্যামার ছাড়াই তিনি বিদেশের মাটিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর কর্মজীবন ও সাহসিকতা বর্তমান প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের এক নিভৃত অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের এক অজ্ঞাত কবরে সমাহিত হলেও ভারতের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।