বাংলার জয়ের পর টার্গেট দিল্লি! বিধানসভা ভোটের আগে মমতার হুঙ্কার আর অভিষেকের বড় টার্গেট

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে রবিবার ভবানীপুরে এক হাইভোল্টেজ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় জয় নিশ্চিত করার পরেই তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে দিল্লি। জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের বড় ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে রাম মন্দিরে যেতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আদিবাসী ভাবাবেগে শাণ দিয়েছেন তিনি। রান্নার গ্যাসের আকাল এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তড়িঘড়ি প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন তোলেন, মাত্র তিন দিনে ৫০ জন আধিকারিক বদল করার পর কোনও অঘটন ঘটলে তার দায় কে নেবে?
অন্যদিকে, নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে বাড়তি সতর্ক মমতা। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া নির্দেশ, “ভোট শেষ হলেই বাড়ি চলে যাবেন না, স্ট্রং রুমে কড়া নজর রাখুন।” ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা অন্য কোনও কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জয়ের ব্যবধানের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে এবার ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জেতাতে হবে। গত উপনির্বাচনে এই ব্যবধান ছিল প্রায় ৫৮ হাজার। মোট ২৮৭টি বুথের মধ্যে অন্তত ২৩২টিতে জয়ের টার্গেট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ভুলে একজোট হয়ে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বাংলায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার মূল লড়াই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে।