২০২১-এর পুনরাবৃত্তি রুখতে নজিরবিহীন ছক কমিশনের, বাংলাজুড়ে নামছে রোবট ও ড্রোন বাহিনী

২০২১-এর পুনরাবৃত্তি রুখতে নজিরবিহীন ছক কমিশনের, বাংলাজুড়ে নামছে রোবট ও ড্রোন বাহিনী

ভোট মিটলেই কি শুরু হবে অশান্তি? আশঙ্কার মেঘ কাটাতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। ২০২১ সালের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার পশ্চিমবঙ্গকে কার্যত নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, বাংলার ইতিহাসে এই প্রথম ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে ময়দানে নামছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

কমিশনের মাস্টারপ্ল্যান

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোট শেষ হওয়ার পরেও রাজ্যে মোতায়েন থাকবে প্রায় ৭০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF)। এর মধ্যে ৫০০ কো ম্পা নি শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবে। যার মধ্যে রয়েছে:

  • CRPF: ২০০ কো ম্পা নি
  • BSF: ১৫০ কো ম্পা নি
  • CISF: ৫০ কো ম্পা নি
  • ITBP: ৫০ কো ম্পা নি
  • SSB: ৫০ কো ম্পা নি

বাকি ২০০ কো ম্পা নি ভোটগণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত ইভিএম এবং স্ট্রং রুম পাহারা দেবে।

রোবট কুকুর ও ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরার নজরদারি

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এবার অশান্তি রুখতে ‘স্মার্ট’ নজরদারিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২ লক্ষ ওয়েবক্যামের পাশাপাশি ব্যবহার করা হবে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা। চমকপ্রদ বিষয় হলো, স্পর্শকাতর এলাকায় পরিস্থিতির ছবি সরাসরি কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে ব্যবহার করা হবে ‘রোবট কুকুর’। এছাড়া আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে চলবে কড়া নজরদারি।

কেন এই অতি-সতর্কতা?

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ২ থেকে ৫ মে-র মধ্যে রাজ্যে তেরোশোর বেশি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। সেই সময় শপথ গ্রহণের আগে পর্যন্ত রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব ছিল কমিশনের হাতে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার ফলপ্রকাশের পরও অন্তত দুই সপ্তাহ বাহিনী আটকে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১০ এপ্রিলের মধ্যে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের সশস্ত্র পুলিশসহ অতিরিক্ত কয়েকশ কো ম্পা নি বাহিনী বাংলায় ঢুকে পড়বে। কোনোভাবেই যাতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না হয়, তার জন্য এবার শূন্য সহনশীলতা নীতিতে হাঁটছে কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *