বাংলায় মুসলিম ভোট কি লক্ষ্যভ্রষ্ট? ওয়েইসি-হুমায়ুন জোটের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ‘মিম’ এবং হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র জোট মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পারবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ১১২টি আসনে মুসলিম ভোটাররা অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ৪৬টি আসনে এই ভোটারদের সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি। তবে অতীত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সমীকরণ বলছে, বিজেপিকে রুখতে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট বিভাজিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘মিম’-এর মূল ভিত্তি উর্দুভাষী মুসলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলেও পশ্চিমবঙ্গের ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম বাঙালি এবং গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া বিহার বা উত্তরপ্রদেশের মতো মেরুকরণের রাজনীতি বাংলায় সেভাবে সফল হয়নি। ভোটারদের একাংশের মধ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও, বিকল্প হিসেবে তারা এখনও কংগ্রেস বা বামেদের দিকেই বেশি ঝুঁকে। ভোটাররা মনে করেন, ছোট দলগুলিকে ভোট দিলে আখেরে ভোট কাটাকাটির ফলে বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ভিন্নতা এই জোটের সাফল্যের পথে বড় বাধা। ‘মিম’-কে বিরোধীরা প্রায়ই বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে কটাক্ষ করে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। অন্যদিকে, রাজ্যের মুসলিম সমাজ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। তারা নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে বিচলিত হলেও, নির্বাচনের ময়দানে কৌশলগত ভোটদানের মাধ্যমেই ক্ষমতা নির্ধারণ করতে পছন্দ করেন। ফলে ওয়েইসি বা হুমায়ুন কবীর এই বিশাল ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।