নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রতিশ্রুতির জোয়ার, সংশয়ে সাধারণ ভোটার

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের প্রতিশ্রুতির বহর তত বাড়ছে। বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অঙ্গীকারগুলো সাধারণ মানুষের কাছে আশার আলো দেখানোর চেয়ে সংশয়ই বেশি তৈরি করছে। সমাজতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিচারে দেখা গেছে, প্রতিশ্রুতি দেওয়া যতটা সহজ, তা পালন করা ততটাই কঠিন। প্রাচীন মহাকাব্য থেকে আধুনিক সাহিত্য—সর্বত্রই সংকল্প রক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের এক জটিল টানাপোড়েন বিদ্যমান।
মহাভারতের অর্জুন বা গ্রিক ট্র্যাজেডির বীরদের ন্যায় অনেকে শপথ রক্ষা করলেও, জেসন বা কর্ণের মতো চরিত্ররা ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে আছেন। বাস্তববোধের অভাব, তীব্র ভাবাবেগ কিংবা বিরূপ পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় বড় বড় অঙ্গীকার অপূর্ণ থেকে যায়। বর্তমান যুগেও রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ছলনা জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা অনেক সময় পারিবারিক বা সামাজিক কাঠামোকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঔপনিবেশিক আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক মিথ্যে আশার ফাঁদে পড়ে একটি পুরো প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভি. এস. নয়পল বা সালমান রুশদির সাহিত্যেও এই বঞ্চনার ছবি ফুটে উঠেছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাই প্রশ্ন উঠছে, এবারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো কি আদেও বাস্তবায়িত হবে, নাকি তা কেবলই ভোটের সমীকরণ মেলানোর হাতিয়ার হয়ে রয়ে যাবে? সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন।