৬০ হাজারি ছক্কা হাঁকানোর লক্ষ্য অভিষেকের, ভবানীপুরের ডেরায় নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে কর্মীদের চরম হুঁশিয়ারি মমতার

ভোট মিটলেই বাড়ি ফেরা যাবে না, বরং স্ট্রং রুমের পাহারায় থাকতে হবে অতন্দ্র প্রহরীর মতো— হাইভোল্টেজ ২০২৬ নির্বাচনের আগে ভবানীপুরের সাংগঠনিক বৈঠক থেকে দলীয় কর্মীদের এমনই কড়া দাওয়াই দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট মনে করিয়ে দেন নন্দীগ্রামের সেই কাঁটাভরা অভিজ্ঞতার কথা। তাঁর অভিযোগ, অতীতে গণনার সময় হওয়া ‘অনিয়ম’ যাতে আর ফিরে না আসে, তার জন্য এখন থেকেই কোমর বাঁধতে হবে ঘাসফুল শিবিরকে।
মমতার এই সতর্কবার্তার পাশাপাশি জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে সুর চড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভবানীপুর থেকে তৃণমূল নেত্রীকে এবার অন্তত ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতিয়ে আনার টার্গেট দিলেন তিনি। দলীয় কোন্দল ভুলে সকলকে একজোট হয়ে লড়াই করার নির্দেশ দিয়ে অভিষেক সাফ জানান, এই কেন্দ্র খোদ দলনেত্রীর, তাই দায়িত্ব এখানে অনেক বেশি।
তবে জয়ের আত্মবিশ্বাসের মাঝেই চোরা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভোটার তালিকা। মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের যোগসাজশে তালিকা থেকে কয়েক হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একাধিক প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সাম্প্রতিক উপনির্বাচন ও পুরভোটে কিছু এলাকায় ব্যবধান কমে আসায় যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে এবার সরাসরি বুথ স্তরে নজরদারি বাড়ানোর রণকৌশল নিল তৃণমূল। সোমবারের সংশোধিত ভোটার তালিকায় কী চমক থাকে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।