রান্নায় সরষের তেল কি আসলেও খাঁটি? চেনার জাদুকরী উপায় ও অজানা গুণাগুণ

নিউজ ডেস্ক : বাঙালির হেঁশেল মানেই ঝাঁঝালো সরষের তেলের সুবাস। কিন্তু বর্তমান বাজারে আপনি যে তেলটি কিনছেন, তা কি আসলেও স্বাস্থ্যকর? নাকি কেবলই বিজ্ঞাপনের চমক? দীর্ঘ ৯০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ‘পি মার্ক’ সরষের তেলের কর্ণধার বিবেক পুরী সরষের তেলের গুণাগুণ এবং এর বিশুদ্ধতা চেনার সঠিক উপায় নিয়ে বিস্ফোরক কিছু তথ্য ভাগ করেছেন।
সরষের তেলই কেন সেরা?
ভারতীয় জলবায়ু ও খাদ্যাভ্যাসের জন্য সরষের তেলকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রিজারভেটিভ গুণ আচার বা অন্যান্য খাবার দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
কাচ্চি ঘানি না কি কোল্ড-প্রেসড?
বাজারে এখন ‘কোল্ড-প্রেসড’ বা ‘উড-প্রেসড’ নাম দিয়ে চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। আসলে এই আধুনিক নামগুলো আমাদের চিরচেনা ‘কাচ্চি ঘানি’ পদ্ধতিরই নামান্তর। কম তাপমাত্রায় ধীরগতিতে তেল বের করার প্রাচীন পদ্ধতিই হলো কাচ্চি ঘানি, যা তেলের প্রাকৃতিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখে।
খাঁটি তেল চেনার উপায়
বিবেক পুরীর মতে, সরষের তেলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে কেবল ব্র্যান্ড দেখলে চলবে না। কেনার সময় অবশ্যই ‘অ্যাগমার্ক গ্রেড-১’ (Agmark Grade-1) চিহ্নটি দেখে নিন। বর্তমানে অনেক বড় কো ম্পা নি এই মানদণ্ড এড়িয়ে চললেও এটিই হলো গুণমানের আসল পরিচয়। সস্তা তেলের ফাঁদে না পড়ারও পরামর্শ দেন তিনি, কারণ তাতে ভেজাল বা নিম্নমানের বীজ ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে।
প্রতিদিন কতটা তেল প্রয়োজন?
একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক ২৫-৩০ গ্রাম তেল গ্রহণ করা উচিত। তবে তেলের দাম বা বিজ্ঞাপনের চেয়েও এর লেবেল, FSSAI স্ট্যান্ডার্ড এবং বিশুদ্ধতার শংসাপত্র দেখে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সরষের তেলকে কেবল একটি রান্নার উপকরণ নয়, বরং ভারতের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক বাছাই এবং সচেতনতাই পারে আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে।