ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি বনাম ইরানের পালটা হুমকি: হোর্মুজ প্রণালীতে আকাশছোঁয়া ‘ট্রানজিট ফি’ নিয়ে ঘনীভূত বিশ্ব তৈল সংকট

ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত এবার চরম অর্থনৈতিক মোড় নিয়েছে। যুদ্ধের ব্যয়ভার মেটাতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হোর্মুজ প্রণালী’ ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের কৌশল নিয়েছে তেহরান। এখন থেকে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজকে ২ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৮.৮ কোটি ভারতীয় টাকা ‘ট্রানজিট ফি’ হিসেবে দিতে হবে বলে ইরান সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের এই কৌশলগত অবস্থানের ফলে হোর্মুজ প্রণালীতে জাহাজের দীর্ঘ জট তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজের্দি জানিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব ও শক্তির প্রকাশ হিসেবেই শুধুমাত্র ফি প্রদানকারী জাহাজগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান পরিকল্পিতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথটি নিয়ন্ত্রণ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হোর্মুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। পালটা জবাবে ইরানও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইসরায়েলের জ্বালানি ভাণ্ডার এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো তাদের মিসাইলের আওতায় রয়েছে। এই ‘ট্যাক্স যুদ্ধ’ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।