নির্বাচন কমিশনের অফিসার বদলি ঘিরে হাইকোর্টে প্রশ্ন, রাজ্যে কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি?

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে একের পর এক উচ্চপদস্থ আমলা ও পুলিশকর্তাদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে শুনানির সময় মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবসহ প্রায় ৯২ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আদালতকে জানান, এ ধরনের ঢালাও বদলি কেবল রাষ্ট্রপতি শাসন বা সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ জারি হলেই সম্ভব।
রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এই গণবদলির বিরোধিতা করে জানান, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নন এমন অফিসারদেরও সরানো হয়েছে। সওয়াল জবাবে প্রশ্ন তোলা হয়, কোনো বিপর্যয় ঘটলে দায়িত্বহীন অবস্থায় থাকা এই পদগুলি কে সামলাবে? বিশেষ করে দক্ষ অফিসার ও পুলিশ কমিশনারদের আকস্মিক অপসারণের নেপথ্যে কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। তারা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো পরিস্থিতি অন্য কোনো ভোটমুখী রাজ্যে তৈরি হয়নি।
পাল্টা যুক্তিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পাঁচটি রাজ্যেই প্রয়োজনীয় রদবদল করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। কমিশনের পক্ষ থেকে এই জনস্বার্থ মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়, কারণ মামলাকারী একজন সরকারি কৌঁসুলি। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মামলাটি স্থগিত রেখেছে; আগামী বুধবার এই বিষয়ে পুনরায় শুনানি হবে।