আরজি করে মরণফাঁদ ট্রমা কেয়ার সেন্টার? শৌচালয় খুঁজতেই চলে গেল প্রাণ

কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার নজিরবিহীন ছবি। একতলার ট্রমা কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসক থেকে রোগী— সবার জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি শৌচালয়। সেই ন্যূনতম পরিষেবার অভাবেই রবিবার রাতে প্রাণ হারালেন শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া প্রৌঢ় বিশ্বজিৎ সামন্ত। বেডপ্যান বা স্ট্রেচার না পেয়ে অসুস্থ শরীরে শৌচালয়ের খোঁজে হাঁটতে গিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
পরপর দুই মৃত্যুতে রণক্ষেত্র আরজি কর
গত শুক্রবারই লিফটে আটকে ভয়াবহ মৃত্যু হয়েছিল অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের পরিষেবা নিয়ে উঠল চরম গাফিলতির অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪-এর অগস্টের ভাঙচুরের পর থেকেই ট্রমা কেয়ারে অতিরিক্ত চাপ বেড়েছে, কিন্তু পরিকাঠামো রয়ে গিয়েছে তিমিরেই।
পিছিয়ে নেই বির্তক
- একটিই টয়লেট: ৭ তলা বিল্ডিংয়ের নিচে ডাক্তার, নার্স ও রোগীদের জন্য মাত্র একটি শৌচালয়।
- পিউব্লিউডি-র নির্মাণ ত্রুটি: হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কেন পর্যাপ্ত শৌচালয় নেই, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
- বন্ধ ওয়ার্ড: জল চুঁইয়ে যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ একাধিক শৌচালয়।
- শয্যা সংকট: মাত্র ৫টি বেড নিয়ে ধুঁকছে ট্রমা কেয়ারের এমার্জেন্সি বিভাগ।
বিধায়ক অতীন ঘোষ এই ঘটনাকে ‘বিভাগের গাফিলতি’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। দ্রুত মূল এমার্জেন্সি বিভাগ সংস্কার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনায় সরকারি চিকিৎসার নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক দানা বাঁধছে।