ধুরন্ধর ২: রণবীর সিংয়ের অ্যাকশন স্পেকট্যাকলে গল্পের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তার আধিক্য

২০২৫ সালের সফল স্পাই থ্রিলারের সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও গল্পের বুনুটের চেয়ে উগ্র অ্যাকশন ও রাজনৈতিক প্রচারণার কারণেই বেশি চর্চায় এসেছে। আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবিতে জসকিরত সিংয়ের চরিত্রে রণবীর সিং নিজের সেরাটা দিলেও চিত্রনাট্যের দুর্বলতা স্পষ্ট। প্রথম পর্বের রহস্য ও টানটান উত্তেজনাকে ছাপিয়ে এখানে প্রতিহিংসা এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভিলেন চরিত্রের গভীরতার অভাব এবং দীর্ঘ সময়সীমা দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনটির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্তের চিত্রায়ন। নোটবন্দির মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে এখানে এককভাবে ইতিবাচক ও নাটকীয় মোড়কে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তব অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রশংসাপত্রের মতো মনে হতে পারে। এছাড়া উরি হামলা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নানা দিক ছবিতে উঠে এসেছে। সমালোচকদের মতে, গল্পের স্বাভাবিক গতিপথের চেয়ে নির্দিষ্ট মতাদর্শ প্রচারের দিকেই পরিচালকের ঝোঁক ছিল বেশি।
কারিগরি দিক থেকে ছবির ভিএফএক্স এবং রণবীর সিংয়ের অভিনয় প্রশংসনীয় হলেও আবহ সংগীত এবং অতিরিক্ত হিংস্রতা অনেক ক্ষেত্রেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী চরিত্রগুলোর গুরুত্বহীনতা এবং পার্শ্ব চরিত্রগুলোর আসাম্পূর্ণ বিকাশ ছবিটিকে একটি ভারসাম্যহীন রূপ দিয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রায় অ্যাকশন ও স্লোগানের ভিড়ে মূল সংবেদনশীল গল্পটি হারিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ‘ধুরন্ধর ২’ একটি বিশাল আয়োজনের চলচ্চিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ভেতরে রয়ে গেছে এক অদ্ভুত শূন্যতা।