নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক বদলির এক্তিয়ার নিয়ে হাইকোর্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোরালো সওয়াল

রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক একের পর এক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিক বদলির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে তীব্র আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ও এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে তিনি দাবি করেন, রাতারাতি আধিকারিকদের অপসারণের এই প্রক্রিয়া সাধারণত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকাকালীন দেখা যায়।
আদালতে সওয়াল করার সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষত রাজ্যের মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব না দিয়ে এভাবে শীর্ষ আমলাদের অপসারণ করা নজিরবিহীন। অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত প্রশ্ন তোলেন যে, নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আধিকারিকদের সরানোর সর্বোচ্চ ক্ষমতা কমিশনকে কে দিয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আইনি লড়াই তুঙ্গে উঠেছে।
পাল্টা যুক্তিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, তারা কোনো অসীম ক্ষমতার দাবি করছে না। তবে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি অধিকার তাদের রয়েছে। কমিশনের এই ব্যাখ্যার পর আদালত আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। আইনি মহলের নজর এখন উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের দিকে, যা নির্বাচনী আবহে কমিশনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে।