ষোড়শ অর্থ কমিশন নিয়ে ধোঁয়াশা: থমকে রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন পরিকল্পনা জিপিডিপি

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও রাজ্যের কাছে বার্ষিক গ্রামোন্নয়ন পরিকল্পনা বা জিপিডিপি (GPDP) তলব করেনি কেন্দ্র। সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই নয়াদিল্লি এই সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠায় এবং এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে তার অনুমোদন দেয়। কেন্দ্রের এই অনুমোদিত পরিকল্পনার ভিত্তিতেই অর্থ কমিশনসহ বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ নির্ধারিত হয়। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার তিন মাস পরেও কেন্দ্র নীরব থাকায় নবান্নের প্রশাসনিক মহলে তীব্র ধন্দ তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সরকার অবশ্য আগাম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। গত অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকেই জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে জিপিডিপি তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সমস্ত তথ্য প্রস্তুত থাকলেও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক নির্দেশ না দেওয়ায় তা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের কারণে ফেব্রুয়ারি মাসেই যেখানে অনুমোদনের কাজ শেষ হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর এই দীর্ঘসূত্রতায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাজ্যের আমলারা।
অভিজ্ঞ আধিকারিকদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ষোড়শ অর্থ কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা থাকায় এই বিলম্ব হতে পারে। কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই কমিশন চালুর ঘোষণা করলেও এর কার্যকারিতার পদ্ধতি নিয়ে স্পষ্ট কোনো গাইডলাইন এখনও আসেনি। সম্ভবত নতুন এই ব্যবস্থার রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়ায় কেন্দ্র জিপিডিপি তৈরির নির্দেশ দেয়নি। ফলে গ্রামোন্নয়নের অর্থ বরাদ্দ ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।