গোঘাটে উন্নয়নের জোয়ার না বঞ্চনার রাজনীতি? বিদায়ী বিধায়কের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

গোঘাটে উন্নয়নের জোয়ার না বঞ্চনার রাজনীতি? বিদায়ী বিধায়কের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

বিদায়ী বিধায়ক বিশ্বনাথ কারকের দাবি, গত পাঁচ বছরে গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নে তিনি বিধায়ক তহবিলের বরাদ্দ ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার পুরোটাই ব্যয় করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় ১১৯টি হাইমাস্ট লাইট, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, অনাথ আশ্রম ও কবরস্থানের পাঁচিল নির্মাণ এবং কৃষি সেচের জন্য ১২টি মিনি ডিপ টিউবওয়েল বসানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত প্রকল্পের জন্য আরও ৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

উন্নয়নের এই খতিয়ানকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো কাজই হয়নি এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় শংসাপত্রের জন্য বিধায়ককে খুঁজে পাননি। অন্যদিকে, প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে মান্দারণ এলাকায় একটি সেতুর কাজ আটকে যাওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন বিশ্বনাথবাবু। দল তাঁকে এবার প্রার্থী না করলেও তিনি আক্ষেপহীন এবং দলের হয়েই কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

একসময়ের বাম দুর্গ গোঘাটে বর্তমানে বহুমুখী লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। সিপিএমের দাবি, এলাকায় বিদায়ী বিধায়কের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। ২০১৬ সালে তৃণমূলের দখলে থাকা এই আসনটি গত নির্বাচনে বিজেপি ছিনিয়ে নিলেও, এবার তা পুনদর্খলে মরিয়া শাসকদল। হাইমাস্ট লাইট ও সোলার প্যানেলের মতো ছোটখাটো কাজের বাইরে বড় কোনো কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আনতে না পারার ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে প্রচার চালাচ্ছে বিরোধীরা। গোঘাটের উন্নয়ন না বঞ্চনা— শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *