লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দাপটে ব্যাকফুটে বিজেপি, ‘অন্নপূর্ণা’ নিয়ে সংশয়ে খোদ দলীয় নেতৃত্বই

মহিষাদল বিধানসভা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বিজেপি। দলের অভিজ্ঞ ভোট ম্যানেজার তপন বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে, রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রভাব ভোটারদের ওপর প্রবল। এর বিপরীতে বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি মহিলাদের মধ্যে তেমন সাড়া জাগাতে পারছে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালালেও মহিলারা নিশ্চিত আর্থিক সহায়তার বদলে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রাখতে দ্বিধাবোধ করছেন।
নির্বাচনী রণকৌশল সাজাতে মহিষাদলের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও হলদিয়ার ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২৬৯টি বুথে বিশেষ টিম গঠন করেছে বিজেপি। প্রতিটি বুথে ১২ জনের সদস্য দল থাকলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্প বোঝাতে গিয়ে তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয় মহিলাদের মতে, প্রতি মাসে নিশ্চিতভাবে পাওয়া ১৫০০ টাকা তাদের সংসারের বড় অবলম্বন। ফলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কোনো প্রকল্পের চেয়ে বর্তমান সুবিধাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী তিলক চক্রবর্তী উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। যদিও এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে ভোটারদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিজেপি প্রার্থী সুভাষ পাঁজার সমর্থনে কর্মীরা ময়দানে নামলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্কে প্রচারের আবহ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে মহিষাদলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জনপ্রিয়তাই বর্তমানে বিজেপির মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।