২০২৯ নয় কি তার আগেই নারী সংরক্ষণ? মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক ও নতুন সমীকরণ

২০২৯ নয় কি তার আগেই নারী সংরক্ষণ? মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক ও নতুন সমীকরণ

কেন্দ্রীয় সরকার ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনয়ম’ বাস্তবায়নে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে। নতুন জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের (Delimitation) দীর্ঘ প্রতীক্ষা এড়িয়ে দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ চালুর পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার। চলতি বাজেট অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল পেশ হতে পারে।

কবে হবে প্রথম ভোট?

সরকারি লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনই হবে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন যেখানে মহিলারা ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ পাবেন। একই সময়ে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে সংসদীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনেও এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ দেখা যেতে পারে।

আসন সংখ্যা বৃদ্ধির নতুন ফর্মুলা

জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে এই জটিলতা কাটানোর পথ খুঁজছে কেন্দ্র।

  • লোকসভায় ৫৪৩ থেকে ৮১৬ আসন: বর্তমান লোকসভা আসনের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮১৬ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কোনো রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা না কমিয়েই মহিলাদের জন্য সরাসরি ২৭৩টি আসন সংরক্ষিত করা সম্ভব হবে।
  • রাজ্য বিধানসভা: একইভাবে উত্তরপ্রদেশের লোকসভা আসন ৮০ থেকে ১২০ এবং বিহারের আসন ৪০ থেকে ৬০ করার প্রস্তাব রয়েছে। এই পদক্ষেপে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কারণে আসন কমার ভয়ও দূর হবে।
  • লটারি সিস্টেম: ২০১১ সালের জনগণনাকেই ভিত্তি ধরে লটারির মাধ্যমে সংরক্ষিত আসন নির্ধারণের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসৃত হতে পারে।

অমিত শাহের তৎপরতা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। কংগ্রেস ও তৃণমূলের মতো দলগুলো আগে থেকেই জনগণনার শর্ত সরানোর দাবি জানিয়ে আসছিল, তাই এই বিল পাসে বড় কোনো বাধার আশঙ্কা কম। ২৮-২৯ মার্চের মধ্যে বিলটি সংসদে আসতে পারে। ৪ এপ্রিল বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার আগেই এটি পাস করিয়ে নিতে মরিয়া সরকার।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশন

সমগ্র দেশে আসন বিন্যাসের দায়িত্ব থাকবে একটি নিরপেক্ষ ডিলিমিটেশন কমিশনের ওপর। নির্বাচন কমিশন কেবল নির্দিষ্ট দু-একটি রাজ্যের দায়িত্ব নিলেও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পৃথক শক্তিশালী কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, যার রায় সুপ্রিম কোর্টেও চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *