লিপস্টিক থেকে প্যান্টের রঙ সবকিছুর উৎস এই কালো তেল! সরাসরি ব্যবহার করা যায় না কেন জানেন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাধলে কেন কাঁপতে থাকে সারা বিশ্ব? আসলে আমাদের সকালের টুথব্রাশ থেকে রাতের ক্রিম—সবকিছুর পেছনেই লুকিয়ে আছে এই অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল। মাটির নিচ থেকে তোলা এই ঘন কালো তরল সরাসরি ব্যবহারের অযোগ্য হলেও এর ভেতরেই মিশে থাকে আধুনিক সভ্যতার হাজারো উপাদান।
কেন সরাসরি ব্যবহার আসাম্ভব
প্রকৃতি থেকে পাওয়া অপরিশোধিত তেল আসলে বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের এক জটিল মিশ্রণ। এতে সালফার, নাইট্রোজেন ও ভারী ধাতুর মতো নানা অশুদ্ধি থাকে। সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে এটি ঠিকমতো জ্বলে না, বরং প্রচুর বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করে ইঞ্জিনের বারোটা বাজিয়ে দেয়। এর সান্দ্রতা বা আঠালো ভাব এতই বেশি যে পাইপলাইনের ভেতর দিয়ে এটি সহজে নড়াচড়া করতে পারে না।
একটি তেল থেকে হাজারো পণ্য
রিফাইনারিতে ‘ফ্র্যাকশনাল ডিস্টিলেশন’ প্রক্রিয়ায় এই তেল থেকে একে একে আলাদা করা হয় দরকারি সব জিনিস।
- জ্বালানি: পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, জেট ফুয়েল এবং রান্নার এলপিজি।
- নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু: প্লাস্টিকের বোতল, খেলনা, টায়ার, পাইপ এবং ডিটারজেন্ট।
- পোশাক ও প্রসাধন: সিন্থেটিক কাপড় (পলিয়েস্টার, নাইলন), লিপস্টিক, মাসকারা, ফাউন্ডেশন এবং পারফিউম। এমনকি জুতার পালিশ ও মোমবাতিও তৈরি হয় এই তেলের উপজাত থেকে।
সহজ কথায়, আমাদের চারপাশের কৃত্রিম সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে এই রহস্যময় ‘কালো সোনা’।