ভোটের কাজে মাঝরাস্তায় আটকে দেওয়া হলো অভিনেতা অরিত্রর গাড়ি

ভোটের কাজে মাঝরাস্তায় আটকে দেওয়া হলো অভিনেতা অরিত্রর গাড়ি

শুটিংয়ে যাওয়ার পথে বড় বিপাকে অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক! ট্রাফিক পুলিশের রিিশন স্লিপ ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড রাজপথে। লোকসভা ভোটের মুখে আপনার সাধের গাড়িটি কি এভাবেই যখন-তখন নিয়ে নিতে পারে প্রশাসন? জেনে নিন ঠিক কী বলছে আইন।

মঙ্গলবার সকালে রথতলায় হঠাৎই অভিনেতা তথা রাজনৈতিক বিশ্লেষক অরিত্রর গাড়ি আটকে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। সাফ জানানো হয়, নির্বাচনের কাজের জন্য গাড়িটি লাগবে। মুহূর্তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। প্রতিবাদে ফেটে পড়েন অভিনেতা। স্পষ্ট জানান, নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এভাবে গাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। প্রায় এক ঘণ্টা চলে তুমুল বচসা।

অরিত্রর দাবি, ২০০৬ সালের কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ি এভাবে হুটহাট তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। নিয়ম বলছে, প্রথমে সরকারি এবং তারপর বাণিজ্যিক গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। খুব প্রয়োজন হলে তবেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিক চিঠি পাঠিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চাইতে পারেন। মাঝরাস্তায় ‘জলদস্যুদের’ মতো রিিশন স্লিপ দেখিয়ে গাড়ি দখল করা যায় না।

এই ঘটনার পর দমে না গিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন অরিত্র। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন তিনি। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা।

কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন কি আদৌ আপনার গাড়ি চাইতে পারে? উত্তর হলো—হ্যাঁ, আইনত পারে। তবে তার নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। সরাসরি রাস্তা থেকে ছিনিয়ে নেওয়া নয়, বরং যথাযথ নোটিস এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির আগে সরকারি ও কমার্শিয়াল গাড়ি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। আপনারও যদি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তবে ভয় না পেয়ে সঠিক নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *