সোনা রুপোর দরে ঐতিহাসিক ধস, ৪৩ বছর পর বাজারে এমন পরিস্থিতি

নিউজ ডেস্ক
রেকর্ড উচ্চতা থেকে এক ধাক্কায় ২২ শতাংশ নিচে নেমে এল সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুর দাম এখন কার্যত তলানিতে। গত সপ্তাহে সোনার দামে প্রায় ১১ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে যা ১৯৮৩ সালের পর বৃহত্তম সাপ্তাহিক ধস হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX) অনুযায়ী আজ সোনা ও রুপো উভয় ধাতুই চাপের মুখে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৪,৩৫০ থেকে ৪,৪০০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। উল্লেখ্য যে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সোনা ৫,৫৯৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল যা এখন ২২ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে রুপোর দাম ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই পতন
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে তিনটি মূল কারণ রয়েছে। প্রথমত ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। দ্বিতীয়ত ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত করায় অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে। তৃতীয়ত অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
বিশেষজ্ঞদের ধারণা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেও এই অস্থিরতা বজায় থাকবে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC)-এর মতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবির উন্নয়ন ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতিতে সোনার চাহিদা আবারও বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের শেষার্ধে দাম ফের চড়তে পারে বলে মনে করছেন জন রিড।
ভারতীয় বাজারের চিত্র
ডলারের সাপেক্ষে রুপির অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতে বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৪০,০০০ টাকার আশেপাশে রয়েছে। সামনেই বিয়ের মরসুম থাকায় স্থানীয় চাহিদা বাড়লে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।