সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলা: তিন সাংসদ-আইনজীবীর সওয়ালে উত্তপ্ত আদালত

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইপ্যাক মামলায় মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন তিন প্রথিতযশা আইনজীবী-সাংসদ কপিল সিবাল, অভিষেক মনু সিংভি ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় রাজ্যের প্রাথমিক আপত্তি নিয়ে বিচারপতি পি. কে. মিশ্রর বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি চলে। শুনানির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মৌলিক অধিকার ভঙ্গের আবেদন জানাতে পারে কি না, সেই সাংবিধানিক বৈধতা।
রাজ্যের পক্ষে কপিল সিবাল যুক্তি দেন যে, তদন্তকারী সংস্থা কোনো ‘ব্যক্তি’ বা ‘নাগরিক’ নয়, তাই তারা অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে রিট আবেদন করতে পারে না। অন্যদিকে, অভিষেক মনু সিংভি মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। সওয়াল-জবাব চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিচারপতির তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়। আদালত স্পষ্ট জানায়, কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নয়, বরং আইনি অগ্রাধিকার বিচার করেই আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মিশ্র প্রশ্ন তোলেন, যেখানে স্বয়ং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে রাজ্যের কাছেই প্রতিকার চাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা সরকারি কর্মী হলেও তাঁদের নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যায় না। দীর্ঘ বাদানুবাদ শেষে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বলে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে।