ভবানীপুর উপনির্বাচন: আধিকারিক বদল নিয়ে মমতা-শুভেন্দু তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

ভবানীপুর উপনির্বাচনের আবহে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং নন্দীগ্রামের বিডিও-সহ একাধিক আধিকারিককে নির্দিষ্ট প্রার্থীর সুবিধা করে দিতেই ভবানীপুরে আনা হয়েছে। ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার ও শীর্ষ আইএএস-আইপিএস আধিকারিকদের দফায় দফায় বদলি নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দিকেই আঙুল তুলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী একে ‘হারের আতঙ্ক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বদলি হওয়া ৮০ শতাংশ আধিকারিকই একসময় মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বা বিভিন্ন মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। শুভেন্দুর মতে, নিজের রাজনৈতিক খাসতালুকে দাঁড়িয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ আসলে নির্বাচনে পরাজয়ের ভয় থেকেই উদ্ভূত।
ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ভবানীপুর কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধ ততই ব্যক্তিগত ও আক্রমণাত্মক রূপ নিচ্ছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হয়েছেন, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী একে ‘কাচের ঘরে বসে ঢিল ছোড়া’ বলে মন্তব্য করেছেন। সব মিলিয়ে, এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াই এখন রাজ্য ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।