ভোটে পুলিশ পর্যবেক্ষকের পারিবারিক ‘পদ্ম-যোগ’: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তোপ তৃণমূলের

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির ‘যোগসাজশ’ নিয়ে সরব হলো তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও পার্থ ভৌমিক অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কমিশন বাংলার বিরুদ্ধে কার্যত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার জয়ন্ত কান্তকে মালদহের চারটি সংবেদনশীল এলাকায় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
তৃণমূলের দাবি, বর্তমানে বিহারে কর্মরত ওই আধিকারিকের স্ত্রী বিজেপির একজন সক্রিয় নেত্রী। ব্রাত্য বসু একটি ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, জয়ন্ত কান্তের স্ত্রীকে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিতে দেখা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় তিনি বাংলায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল। ব্রাত্য বসু এই পরিস্থিতিকে হিটলারের স্বৈরাচারী পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের অভিযোগ, কোনো সঙ্গত কারণ ছাড়াই রাতারাতি ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের হিসাব ইতিহাস রাখবে। ৪ মে-র পর দেশজুড়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হবে বলেও এদিন দাবি করেন তৃণমূল নেতৃত্ব।