হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পকে মোদীর ফোন, দুই রাষ্ট্রনেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী ইঙ্গিত মিলল

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পকে মোদীর ফোন, দুই রাষ্ট্রনেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী ইঙ্গিত মিলল

নিউ দিল্লি

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে জরুরি কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই নেতার আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রণতপ্ত পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী সচল রাখা। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পশ্চিম এশিয়ায় গত চার সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল ও বিশ্ব বাণিজ্য চরম সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা সফল হলে এই জলপথ ‘খুব দ্রুত’ খুলে দেওয়া হবে। এমনকি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান ও আমেরিকা যৌথভাবে এই বিশ্ব জ্বালানি পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ট্রাম্পের কথায়, “পরবর্তী আয়াতোল্লা যিনিই হোন না কেন, আমি এবং তিনি যৌথভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করব।”

কেন উত্তাল হরমুজ প্রণালী?

বিশ্বের মোট সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এই পথেই সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথ এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টান ফেলেছে।

ভারতের উদ্বেগের কারণ

প্রধানমন্ত্রী মোদী সংসদে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই দিল্লির প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া ওই এলাকায় আটকে পড়া জাহাজগুলোতে বহু ভারতীয় ক্রু সদস্য রয়েছেন, যা মোদী সরকারের কাছে বড় উদ্বেগের বিষয়। ভারত শুরু থেকেই কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট মেটানোর পক্ষে সওয়াল করে আসছে।

এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জাহাজ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ সিনহা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী একটি অবাধ জলপথ। এখানে যাতায়াতের জন্য কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প ও মোদীর এই কথোপকথন যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর দিশা দেখাবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *