খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে মিলবে না দলিত মর্যাদা, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে তোলপাড়

ধমান্তরিত খ্রিস্টানদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শোনাল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো তফশিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, তবে তিনি আর এসসি/এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের সুরক্ষা বা সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।
অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের পূর্বতন এক রায়কে বহাল রেখে বিচারপতিদের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, খ্রিস্টধর্মে কোনো জাতিভেদ নেই। তাই ধর্মান্তরিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর তফশিলি সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে গণ্য হন না। মামলাটি শুরু হয়েছিল চিঁথড়া আনন্দ নামের এক যাজকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ২০২০ সালে জাতিগত হেনস্থার শিকার হওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি মামলা করেছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তদের পালটা যুক্তি ছিল, আনন্দ গত ১০ বছর ধরে যাজক হিসেবে খ্রিস্টধর্ম পালন করছেন, তাই তিনি দলিত পরিচিতি ব্যবহার করে মামলা করতে পারেন না।
হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট উভয়ই ১৯৫০ সালের সাংবিধানিক আদেশের প্রসঙ্গ টেনে জানায়, কেবল হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই তফশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। একবার ধর্ম পরিবর্তন করলে সেই আইনি রক্ষাকবচ হারান ওই ব্যক্তি। বর্তমানে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিতদের দলিত মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি কে.জি. বালকৃষ্ণন কমিটির বিবেচনাধীন থাকলেও, শীর্ষ আদালতের এই রায় বর্তমান আইনি প্রেক্ষাপটে এক বড় নজির হয়ে থাকল।