সাবধান! স্ট্রোক হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই শরীর দেবে এই ৫টি সংকেত

স্ট্রোক একটি অত্যন্ত ভয়াবহ মেডিকেল ইমার্জেন্সি যা কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে অথবা সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, স্ট্রোক হওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস খানেক আগে থেকেই শরীর কিছু বিশেষ সতর্কতা সংকেত দিতে শুরু করে। সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
স্ট্রোকের ৫টি প্রধান আগাম লক্ষণ
১. অস্বাভাবিক ও তীব্র মাথাব্যথা
সাধারণ মাথাব্যথার চেয়ে এটি আলাদা। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ শুরু হওয়া প্রচণ্ড মাথাব্যথা যা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয় এবং সাধারণ ওষুধে কমে না, তা স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। এর সাথে বমি ভাব বা ঝাপসা দেখার সমস্যাও থাকতে পারে।
২. শরীরের এক পাশে অবশ ভাব বা দুর্বলতা
মুখ, হাত বা পায়ের কোনো এক দিক হঠাৎ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের অন্যতম বড় সংকেত। অনেক সময় এই দুর্বলতা সাময়িক হয়ে আবার ঠিক হয়ে যায়, যা মানুষ অবহেলা করে। কিন্তু এটি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের সমস্যারই ইঙ্গিত।
৩. কথা বলায় জড়তা বা অসংলগ্নতা
হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া মস্তিষ্কের ভাষা নিয়ন্ত্রণকারী অংশে চাপের লক্ষণ। এমনটি হলে মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
৪. চোখের দৃষ্টিতে সমস্যা
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, একটা জিনিসকে দুটো দেখা বা এক চোখে কম দেখা ‘মিনি স্ট্রোক’-এর লক্ষণ হতে পারে। এটি পরবর্তীকালে বড় স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৫. ভারসাম্যহীনতা ও মাথা ঘোরা
হাঁটার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা বা কারণ ছাড়াই ঘনঘন মাথা ঘোরা মস্তিষ্কের সমন্বয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলে এমনটি ঘটে।
বাঁচার উপায় ও প্রতিরোধ
স্ট্রোক প্রতিরোধে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করাই স্ট্রোক এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রক্তচাপের ওষুধ সঠিক সময়ে খেতে হবে। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম যেমন—দ্রুত হাঁটা বা ইয়োগা রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। ধূমপান ত্যাগ করা এবং অ্যালকোহল বর্জন স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের এই ছোট ছোট সংকেতগুলো অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।